ধ্যান (Meditation), দমচর্চা (Breathing Exercise) ও যোগের (Yoga) ইতিহাস
পৃথিবীতে ধ্যান, দমচর্চা ও যোগের আবির্ভাব কমপক্ষে ৫ হাজার বছর আগে।
প্রাচীন ভারতবর্ষ, চীন, তিব্বত, মিশর, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিন আমেরিকা, অ্যাবরিজিনাল অস্ট্রেলিয়া, গ্রীস; মানব সভ্যতার উৎপত্তি ও বিকাশের প্রধান এসকল পীঠস্থানে মানুষ ধ্যান ও দমের মাধ্যমে অন্তরের গভীরে ডুব দিয়ে মানবচেতনার উৎস ও সত্যের অন্বেষণ করার চেষ্টা করেছে, অন্তর্শক্তি ও অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত করার চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন চেষ্টা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে একসময় তারা সফলও হয়েছে এবং এভাবেই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ধ্যান ও দমচর্চার হাজারো পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে।
ধ্যান এবং দমচর্চা এখন আর দুর্বোধ্য, রহস্যময়, লুক্কায়িত কোনো বিষয় নয়। পৃথিবীর অসংখ্য খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান বিভাগে ধ্যান ও দমচর্চার প্রভাব ও কার্যকারিতা নিয়ে লক্ষাধিক গবেষণা হয়েছে এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত দ্বারা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য, কর্ম অধ্যয়ন খেলাধুলায় উৎকর্ষ ও একাগ্রতা, এবং সামগ্রিকভাবে জীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি, আনন্দ ও সন্তোষ আনয়নে ধ্যান ও দমচর্চার ইতিবাচক ভূমিকা প্রশ্নাতীত।
পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মেও ধ্যান ও দমের চর্চা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম যাঁদের মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়েছে, যেমন হযরত শাহজালাল (রঃ), হযরত শাহ পরাণ (রঃ), হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রঃ) প্রমুখ সুফি সাধক ও বারো আউলিয়া দরবেশগণও নিয়মিত ধ্যান ও দমের অনুশীলন করতেন।
যোগের আবিষ্কার ও সূচনার সময়কাল এবং ইতিহাসও অনুরূপ। “যোগ” শব্দের অর্থ “মিলন”। মানব শরীরের বিভিন্ন আসন/বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের জ্যামিতিক কাঠামো/নকশার সঙ্গে মানবদেহের জ্যামিতিক কাঠামো/নকশার মিলন তৈরী করে মানব শরীর, মানব মস্তিষ্ক ও মানব মনের অসীম শক্তি ও সম্ভাবনার জাগৃতি এবং ভারসাম্য আনয়নের পদ্ধতির নামই যোগ।
সঠিক প্রক্রিয়ায় ধ্যান, দম ও যোগের অনুশীলন করেছেন অথচ জীবনে এর কোনো না কোনো ইতিবাচক ফল লাভ করেননি, এমন মানুষ বিরল।
পৃথিবীর বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা, চিকিৎসা ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানে ছাত্র, রোগী ও ক্রীড়াবিদদের সুস্থতা ও শ্রেষ্ঠত্ব আয়ত্তের নিমিত্তে নিয়মিত ধ্যান, দম ও যোগের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
